ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF), দাভোসে দেওয়া এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এখন এক ঐতিহাসিক পর্যায়ের দ্বারপ্রান্তে।

তিনি বলেন,
“দাভোস শেষ হওয়ার পরপরই আমি আগামী সপ্তাহান্তে ভারত সফরে যাচ্ছি। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে, তবে আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। কেউ কেউ একে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তির জননী’ বলছেন।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের অর্থনীতিকে ডি-রিস্কিং করার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে বিশ্বের বড় প্রবৃদ্ধিশীল অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারত–ইইউ এফটিএকে ইউরোপের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন ভন ডার লায়েন, যেখানে—
শুল্কের বদলে ন্যায্য বাণিজ্য, বিচ্ছিন্নতার বদলে অংশীদারিত্ব এবং শোষণের বদলে টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি সম্মিলিত বাজার তৈরি হবে এবং এটি বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করবে। এতে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো প্রথম-প্রবেশকারী (first-mover) সুবিধা পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন,
“ইউরোপ আজকের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র এবং এই শতাব্দীর অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চায়—লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও তার বাইরেও।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তা এবং উরসুলা ভন ডার লায়েন ২৫–২৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত আসবেন। তাঁরা ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি থাকবেন। পাশাপাশি, ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ১৬তম ভারত–ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে সহ-সভাপতিত্ব করবেন ইউরোপীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, ভারত–ইইউ এফটিএ নিয়ে আলোচনা প্রথম শুরু হয় ২০০৭ সালে, যা ২০১৩ সালে স্থগিত হয়। পরে ২০২২ সালের জুলাই মাসে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়।